মার্কিন ডলার আধিপত্য হ্রাস ২০২২ । বিশ্বস্ততা হারিয়েছে ডলার

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন মার্কিন ডলার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোর মতো প্রচলিত রিজার্ভ মুদ্রাগুলো আন্তর্জাতিক করাবরের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা হারিয়েছে। খবর আরটির। রাশিয়ায় গতকাল বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভ্লাদিভস্তোক বন্দরে সপ্তম বার্ষিক ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্যের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ কথা জানিয়েছেন।

পুতিন জানিয়েছেন, পশ্চিমা দেশগুলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে শক্তিহীন করে ফেলেছে। স্বাচ্ছনদভাবে লেনদেন হওয়া ডলার, ইউরো এবং পাউন্ডের ওপর বিশ্বস্ততা হারিয়েছে মানুষ। এসব মুদ্রায় লেনদেন পরিচালনা, সম্পদ সংরক্ষণ এবং রিজার্ভে ব্যবহৃত হতো।

পুতিন জানিয়েছেন, এ প্রবণতার কারণে রাশিয়া এবং অন্য বহু দেশ লেনদেনের জন্য ভিন্ন মুদ্রা বিশেষ করে চীনের ইউয়ানের দিকে ঝুঁকেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, ‘পর্যায়ক্রমে  আমরা এসব প্রাচীন মুদ্রা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছি। পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোও অর্থ পরিশোধ এবং সঞ্চয়ে ক্ষেত্রে ডলারের ব্যবহার কমিয়ে আনছে।

ভিন্ন মুদ্রার রিজার্ভ রাখার হিস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে

আইএমএফের সাম্প্রতিক এক কার্যপত্রে জানানো হয়েছে, মার্কিন ডলারের অপেক্ষায় অপর ঐতিহ্যবাহী রিজার্ভ মুদ্রায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রাখার হিস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল মুদ্রাগুলো হচ্ছে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং। এ ছাড়া রিজার্ভ সংরক্ষণে ব্যবহৃত চীনা মুদ্রা রেনমিনবির কথা বলা যায়। অবশ্য রেনমিনবিতে সারা বিশ্বে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রাখা হয়েছে, তার এক-তৃতীয়াংশই রয়েছে রাশিয়ায়।কখন থেকে মার্কিন ডলার রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত

অন্যান্য মুদ্রায় মোট যে পরিমাণ রিজার্ভ রাখা হয় তার তিন ভাগের এক ভাগই চার মুদ্রায় সংরক্ষিত

এদিকে ছোট কিছু অর্থনীতির মুদ্রা ঐতিহ্যগতভাবে রিজার্ভ পোর্টফোলিওতে পূর্বে তেমন একটা জায়গা করে নিতে পারেনি। যেমন অস্ট্রেলিয়ান এবং কানাডিয়ান ডলার, সুইডিশ ক্রোনা ও দক্ষিণ কোরিয়ান ওন। এখন অবশ্য ডলার থেকে অন্যান্য মুদ্রায় মোট যে পরিমাণ রিজার্ভ রাখা হয়, তার তিন ভাগের এক ভাগই চার মুদ্রায় সংরক্ষিত।

বিভিন্ন মুদ্রায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বিভিন্ন দেশে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে তুলনামূলক প্রাচীন বিভিন্ন মুদ্রায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জমা রাখার বড় দুটি  কারণ রয়েছে। প্রথমত এসব মুদ্রার আদান-প্রদান হারে অস্থিরতা কম। এই মুদ্রাগুলো রাখলে ভালো রিটার্ন, অর্থাৎ ফল পাওয়া যায়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপকগণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুতে ক্রমবর্ধমান হারে এসব মুদ্রার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। মার্কিন ডলার রেট

দ্বিতীয়ত, নতুন আর্থিক প্রযুক্তির উপস্থিতি তথ্য ব্যবহার। এতে করে বাজারব্যবস্থা অটোমেটিক হয়ে উঠেছে। ফলে অটোমেটিক ভাবে তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণে ক্ষুদ্র  অর্থনীতির মুদ্রাগুলোকে তুলনামূলক জুতসই মনে করা হয়। ফলে, এগুলো নিরেপক্ষ ভাবে সুলভ এবং সহজে সংরক্ষণ করা যায়। এতে মার্কিন ডলারের পরিবর্তে অন্যান্য ক্ষুদ্র মুদ্রায় রিজার্ভ সংরক্ষণের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়।

সূত্র: প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *